তানজিদের ব্যাটে ইতিহাস, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লিড বাংলাদেশের
ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত অবস্থানে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরি করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তাঁর দুর্দান্ত শতকে ভর করে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে পেছনে ফেলে প্রথম ইনিংসে লিড নিয়েছে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চের পর বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ২৩১ রান। ফলে স্বাগতিকদের চেয়ে ৩২ রানের লিড পায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এই লিড এনে দেওয়ার পথে সবচেয়ে বড় অবদান তানজিদের।
নিজের মাত্র দ্বিতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন এই তরুণ ওপেনার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় ব্যাটসম্যানও এখন তানজিদ। এর আগে ২০০৫ সালে ফতুল্লা টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন শাহরিয়ার নাফীস।
১৮৮ বলে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি:
তানজিদের সেঞ্চুরির ইনিংসটি ছিল ধৈর্য ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের দারুণ সমন্বয়। ১৮৮ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছান তিনি।
নাথান লায়নের বলে সিঙ্গেল নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর দুই হাত তুলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তানজিদ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এগিয়ে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানান। ডাগআউটে থাকা সতীর্থরাও হাততালি দিয়ে এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদ্যাপন করেন।
মুমিনুলের সঙ্গে শতরানের জুটি
তানজিদের সেঞ্চুরির পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মুমিনুল হক। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে ৪৯ রানে মুমিনুল আউট হলেও তার আগে তানজিদের সঙ্গে গড়ে তোলেন ১০২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
মুমিনুল ফেরার পর অধিনায়ক শান্তকে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন তানজিদ। তৃতীয় উইকেটে এই জুটি বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ছাড়িয়ে যেতে সাহায্য করে। তানজিদ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার সময় দুজনের জুটিতে যোগ হয় ৯২ রান।
শান্তও ব্যাট হাতে ছিলেন দুর্দান্ত। ৭৪ বলে তুলে নেন নিজের হাফসেঞ্চুরি।
সুযোগ পেয়েও তানজিদকে থামাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া
সেঞ্চুরির পথে ভাগ্যের সহায়তাও পেয়েছেন তানজিদ। দ্বিতীয় দিনের সকালে তাঁকে ফেরানোর একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল অস্ট্রেলিয়া। নাথান লায়নের বলে স্লিপে তাঁর ক্যাচ ফেলেন স্টিভেন স্মিথ।
জীবন পেয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন তানজিদ। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন তিনি। বিউ ওয়েবস্টারের বলে মিড-অফের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে মুমিনুলের সঙ্গে শতরানের জুটি পূর্ণ করেন। এরপর নিজের সেঞ্চুরিও তুলে নেন এই তরুণ ব্যাটার।
হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের দাপট
এর আগে প্রথম দিনেই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। একাই ৬ উইকেট শিকার করেন হাসান। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন স্টিভেন স্মিথ।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস গুটিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশও শুরুতে কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে। তবে তানজিদ-মুমিনুলের জুটি সেই চাপ সামলে নেয়। এরপর শান্তকে সঙ্গে নিয়ে তানজিদ বাংলাদেশকে শুধু বিপদমুক্তই করেননি, বরং এনে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ লিডও।
টানা পাঁচ সেশন ধরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে। তানজিদের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিতে এখন সেই নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে। দিনের বাকি সময় ব্যাট করে লিড আরও বড় করাই এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য।
বিই/ এস এইচ