ট্রাম্পের দাবিকে প্রকাশ্যে নাকচ করল ইরাক, মার্কিন-সৌদি হামলা নিয়ে নতুন বিতর্ক
ইরাকে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর বিভিন্ন অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলার বিষয়ে আগাম কোনো তথ্য ছিল না এবং এ হামলার অনুমতিও দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে ইরাক সরকার। এ বক্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে তিনি বলেছিলেন হামলাটি বাগদাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরাক সরকারের মুখপাত্র হায়দার আল-আবুদি বলেন, “সরকার এ হামলার বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানত না এবং কোনো পক্ষকে এমন অভিযান পরিচালনার অনুমতিও দেয়নি।”
তিনি আরও বলেন, ইরাক সরকার দেশের ভূখণ্ডকে কোনোভাবেই সরকারের জ্ঞান ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের অনুমোদন ছাড়া সামরিক অভিযানের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেবে না।
এর আগে বুধবার পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হামলায় তাদের অন্তত ২০ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন ইরানি নাগরিকও রয়েছেন। হামলায় ইরাকের বিভিন্ন স্থানে পিএমএফের একাধিক অবস্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হামলাটি ইরাক সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হয়েছে। ফক্স নিউজ-এর এক প্রতিবেদকের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
হায়দার আল-আবুদি আরও জানান, হামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদির নির্ধারিত সৌদি আরব সফর স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে সৌদি আরব দাবি করেছিল, তাদের জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হামলা প্রতিহত করা হয়েছে এবং এর জন্য ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা এমন এক সময়ে সৃষ্টি হলো, যখন ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বাগদাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। গত মে মাসের মাঝামাঝি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, যা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল।
তবে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক জোটভুক্ত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, “আমেরিকান শত্রুর বিরুদ্ধে আমাদের জবাব অনিবার্য। পরিস্থিতি প্রয়োজন হলে সৌদি আরবে তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধেও সেই প্রতিক্রিয়া পৌঁছাতে পারে।”
বিই/এসএইচ