জাবি ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদকের পদত্যাগ- জিএস মাজহার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে প্রশাসন আয়োজিত জুলাই কনসার্টে জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ জিসান আহমেদকে অপমানিত করার ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এ ঘটনার পর অপমানের ভার সইতে না পেরে জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন শেখ জিসান আহমেদ।
একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে তাকে জনসম্মুখে অপদস্থ করার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে হাজারো শিক্ষার্থীর ভোটে নির্বাচিত একজন প্রতিনিধিকে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক বিরোধের কারণে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে—এটি কোনোভাবেই একটি সুস্থ ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের চিত্র হতে পারে না।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিজেদের সাংগঠনিক বিরোধের কারণে একদিকে মাননীয় মন্ত্রীর উপস্থিতিতে হট্টগোল করে শোকজের মুখোমুখি হতে হয়েছে, অন্যদিকে কথিত ‘ফুটেজ আদায়ের’ রাজনীতির কারণে এবার একজন নির্বাচিত শিক্ষার্থী প্রতিনিধিকে জনসম্মুখে অপদস্থ করার অভিযোগ উঠেছে।
শুধু তাই নয়, গত বছরের জানুয়ারি ও আগস্ট মাসে কমিটি ও সাংগঠনিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। একই সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ যদি বারবার ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে, তাহলে তা নিঃসন্দেহে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করবে।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা নেতাকর্মীদের উচ্ছৃঙ্খলতার কারণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস অনিরাপদ হয়ে উঠুক—এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে চলাফেরা করবে, মতপ্রকাশ করবে এবং নির্বিঘ্নে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেবে। রাজনৈতিক বিরোধের নামে ক্যাম্পাসে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা শিক্ষার্থীরা কখনোই ভালোভাবে গ্রহণ করবে না।
জাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একজন সম্পাদকের এভাবে পদত্যাগের সুযোগ ও প্রক্রিয়াও সীমিত। ফলে একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
হাজারো শিক্ষার্থীর ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকা শিক্ষার্থীদের জনসম্মুখে অপদস্থ করার মতো ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এ ঘটনার জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন, শিক্ষার্থী ও জাকসুর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থান, শিক্ষার্থীদের মর্যাদা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। কোনো সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের দায় সাধারণ শিক্ষার্থী কিংবা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বহন করবে—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
উল্লেখ্য যে,গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, তিনি জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করছেন এবং আগামী রোববার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।
ফেসবুক পোস্টে শেখ জিসান আহমেদ লেখেন, ‘আমি শেখ জিসান আহমেদ জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক থেকে এই মুহূর্তে পদত্যাগ করলাম। আগামী রোববার প্রশাসন লিখিত কপি পেয়ে যাবে। আমি কখনো রাজনীতি করিনি। রাজনীতির মানুষ না, ভবিষ্যতেও কখনো রাজনীতিতে আসবো না। রাজনীতির নোংরামি আমার পছন্দ না। ধন্যবাদ জাহাঙ্গীরনগর সবকিছুর জন্য।