ভুয়া ঠিকানায় ডিসি অফিসে চাকরির অভিযোগ, সাভার উপজেলার কর্মচারী জহুরুলের বিরুদ্ধে
চাকরি যেখানে সোনার হরিণ, সেখানে স্থায়ী ঠিকানা জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি চাকরি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ঢাকা ডিসি অফিসে নিয়োগ পাওয়া জহুরুল ইসলাম নামে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের স্থায়ী বাসিন্দা হয়েও ঢাকা জেলার ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে চাকরি নিয়েছেন এই কর্মচারী। বর্তমানে তিনি ঢাকা জেলার সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও অধীনস্থ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়গুলোতে তৃতীয় শ্রেণির বিভিন্ন শূন্য পদে ৩০ জন কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদ ছিল ১৪টি।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বলা হয়েছিলো, প্রার্থীকে অবশ্যই ঢাকা জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। লিখিত পরীক্ষা ও অন্যান্য যাচাই-বাছাই শেষে ওই পদে ১১ জনের নিয়োগ হয় বলে জানা যায়। তাঁদের মধ্যে মো.আনছার আলীর ছেলে মো. জহুরুল ইসলাম ও ছিলেন।
নিয়োগের সময় স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে জহুরুল ইসলাম ব্যবহার করেন—ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকার বারঘরটোলা ৬৯ নম্বর বাড়ি।
তবে জহুরুল ইসলামের নিয়োগের সময় ব্যবহৃত স্থায়ী ঠিকানা সরেজমিনে অনুসন্ধান করে পাওয়া গেছে ভিন্ন তথ্য।
কেরানীগঞ্জের উক্ত ঠিকানায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন রজ্জব আলী ও মুক্তার আলী। তারা দুজনই মৃত রমজান আলীর ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, ওই বাড়িতে জহুরুল ইসলাম নামে কোনো ব্যক্তি কখনো বসবাস করেননি।
৬৯ নম্বর বাড়ির মালিক রজ্জব আলী বলেন,এই বাসায় কখনো জহুরুল নামে কেউ ছিলো না। তাকে আমরা চিনিও না।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জহুরুল ইসলামের চাকরির কাগজপত্রে মূল পিতা ও ৭০ নম্বর হোল্ডিংয়ের বাড়ির মালিকের নাম একই থাকায় পিতা হিসেবে মো. আনছার আলীর নাম ব্যবহার করারও অভিযোগ উঠেছে।
আনছার আলীর সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমি জহুরুল ইসলাম নামে কাউকে চিনি না। আমার তিন সন্তান—আজহার, নাহিদ ও শাকিল। এর বাইরে কোনো সন্তান নেই।
স্থায়ী ঠিকানা অনুসন্ধানে জানা যায়, জহুরুল ইসলামের প্রকৃত গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিনোটিয়া গ্রামে।
সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে মো. জহুরুল ইসলাম, পিতা—আনছার আলী নামের পরিচয় ও বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়। বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের সঙ্গে কথা হলেও বাবা আনছার আলী বাড়ির বাইরে থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জহুরুল ইসলামের ঠিকানা নিশ্চিত করে বলেন,জহিরুল ইসলাম ঢাকায় চাকুরী করে। সে সেখানেই থাকে।মাঝে মাঝে বাড়ি আসে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তৎকালীন ঢাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের আত্মীয় ও প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে জহুরুল ইসলাম কথিত ওই ঠিকানা ব্যবহার করে ডিসি অফিসে চাকরি পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, “আমার বাড়ি কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকার ৬৯ নম্বর বারঘরটোলা। আমি সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা।
অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “যেহেতু ২০১৮ সালে নিয়োগ হয়েছে, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তাকে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আদেশে তাকে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বদলি/পদায়ন করা হয় এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই কর্মচারী দীর্ঘ ৮ বছর ধরে সাভার উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন। এ নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে ৩ বছর হলেই বদলি হওয়ার কথা, সেখানে ৮ বছর ধরে একই কর্মস্থলে কিভাবে রয়েছে এই কর্মচারী?