দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ সাভার উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি
এক সময় পাঠকদের পদচারণায় মুখর থাকত সাভার উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি। বইপ্রেমী, শিক্ষার্থী ও জ্ঞানপিপাসু মানুষের মিলনমেলায় মুখরিত থাকত পুরো প্রাঙ্গণ। কিন্তু সেই ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরিটি আজ প্রায় পাঁচ বছর ধরে বন্ধ। ফলে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
১৯৩৯ সালে সাভারের জমিদার স্বর্গীয় বাবু রাখাল চন্দ্র সাহা প্রতিষ্ঠা করেন রাখাল চন্দ্র মেমোরিয়াল হল। পরবর্তীতে এটি সাভার উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। কয়েক দশক ধরে এটি ছিল শিক্ষার্থী ও পাঠকদের জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্র।
সরজমিনে দেখা যায়, লাইব্রেরির বাইরের কেচিগেট ও মূল ফটকে ঝুলছে তালা। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তালায় ধরেছে জং। ভেতরের বারান্দাজুড়ে জমেছে ময়লার স্তূপ। অথচ ঠিক পাশেই রয়েছে সাভার সরকারি কলেজ, অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়, সাভার মডেল থানা, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত হলেও জ্ঞানের এই প্রতিষ্ঠানটি পড়ে আছে তালাবদ্ধ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জুলাই বিপ্লবের আগে লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ঢাকা জেলা সাধারণ সম্পাদক মাসুদ চৌধুরীর সময় এটি পাঠাগারের পরিবর্তে দলীয় কার্যক্রম ও ব্যক্তিগত অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
জুলাই বিপ্লবের পর লাইব্রেরির সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলেও আজ পর্যন্ত পাঠকদের জন্য একদিনের জন্যও খুলে দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী কবির মিয়া বলেন, একসময় এই লাইব্রেরিতে নিয়মিত মানুষের আনাগোনা ছিল। সংস্কার কাজ শেষ হলেও এখনো এটি বন্ধ। একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি দ্রুত লাইব্রেরিটি খুলে দেওয়ার দাবি জানান।
সাভার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আরিফ বলেন,৫ই আগষ্ট পরবর্তী লাইব্রেরীটি এখনো খোলা হয়নি। আমরা শিক্ষার্থীরা চাই দ্রুত যেনো জ্ঞানের এই উম্মুক্ত দরজা খুলে দেওয়া হয়।
অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন,যে জাতী যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি উন্নত। লাইব্রেরী হলো জ্ঞান আহরণের উম্মুক্ত জায়গা। সাভার উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরীটা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ যা আসলেই পাঠক হিসেবে আমাদের জন্য কষ্টের। যত দ্রুত সম্ভব জনসাধারণের জন্য এই লাইব্রেরীটা খুলে দেওয়া হোক
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন,আমরা ডিসি অফিস বরাবর লাইব্রেরীটির বই পত্রের জন্য বাজেট চেয়েছি। বাজেট পাস হয়েছে কিন্তু আমাদের এখানে এখনো আসে নি।আশাকরি অতি দ্রুতই সাভার পাবলিক লাইব্রেরীটা খুলে দেওয়া হবে।