ট্রেনে পাথরের আঘাতে মাড়ির হাড় ভাঙল স্কুল শিক্ষার্থীর
সাভারের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার নবম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী তাসমিয়া ইসলাম দিঘী (১৪) চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে। গত ৭ আগস্ট কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ‘পর্যটন এক্সপ্রেস’ ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
আহত দিঘী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার মুখে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। এতে চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছে তার পরিবার।
তাসমিয়া ইসলাম দিঘী সাভার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার বাসিন্দা দ্বীন ইসলাম ও আরেফিন ইসলাম টিয়া দম্পতির ছোট মেয়ে। পরিবারের সদস্যরা জানান, কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরার পথে চলন্ত ট্রেনে হঠাৎ একটি পাথর এসে দিঘীর মুখে আঘাত করে। এতে তার মুখের মাড়ির হাড় ভেঙে যায় এবং দাঁত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আঘাতের পর তার কান দিয়েও রক্তপাত হয় বলে জানান তারা।
ঘটনার পর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে। তবে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি।
দিঘীর বাবা দ্বীন ইসলাম বলেন, “আমার মেয়ের কোনো দোষ ছিল না। চলন্ত ট্রেনে হঠাৎ পাথর এসে তার মুখে আঘাত করে। মেয়ের এই অবস্থা একজন বাবা হিসেবে দেখা অত্যন্ত কষ্টের। চিকিৎসা ও অপারেশনের খরচ জোগাড় করাও আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।”
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মেধাবী শিক্ষার্থী দিঘী পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। হঠাৎ ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় তার পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবন নিয়েও উদ্বিগ্ন পরিবার।
দিঘীর মা আরেফিন ইসলাম টিয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে পাথর নিক্ষেপকারীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে সহযোগিতা বা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পরিবারের দাবি, শুধু দিঘীর চিকিৎসার ব্যয় বহন নয়, ভবিষ্যতে যাতে কোনো যাত্রী চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো ঘটনায় আহত না হন, সে জন্য রেলপথের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
সাভার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার এই মেধাবী শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় মানবিক সহায়তার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।